যুক্তরাজ্যে ৪০ বছরে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধর্মঘটে রেলকর্মীরা

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। দেশে দেশে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। যুক্তরাজ্যেও এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে খাদ্যের দাম বেড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে। ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে সেখানে। জানা গেছে, গত মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি বেড়ে নয় দশমিক এক শতাংশে দাঁড়ায়।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসের মূল্যস্ফীতি ১৯৮২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ হয়েছে। তাছাড়া পরিস্থিতি আরও খারাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন অবস্থায় যুক্তরাজ্যে ৪০ হাজারের বেশি রেলকর্মী দেশজুড়ে ধর্মঘটে নেমেছেন। গতকাল মঙ্গলবার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে করে লাখ লাখ যাত্রী ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে। তবে ধর্মঘট চললেও বেতন বাড়ানো নিয়ে রেল ইউনিয়ন ও সরকার যার যার অবস্থানে অনড়।

গতকাল মঙ্গলবারের মতো কাল বৃহস্পতিবার ও আগামী শনিবার ধর্মঘট করবেন রেলের কর্মীরা। এতে করে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ ট্রেন চলাচল করছে না। ট্রেন স্টেশনগুলো জনশূন্য। পৃথক একটি ধর্মঘটের কারণে লন্ডনের পাতাল রেলও প্রায় বন্ধ।

শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলছে, রেলকর্মীদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে অন্যান্য পেশার মানুষজনও রাস্তায় নেমে আসবেন। শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এমনকি আইনজীবীরাও আন্দোলন শুরু করবেন। কারণ দেশে মূল্যস্ফীতি এখন ১০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছে মানুষজন।

এদিকে রেলকর্মীদের এ ধর্মঘট ‘ভুল ও অপ্রয়োজনীয়’ বলে মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, সরকার জনস্বার্থে রেল পরিচালনা ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সময়ে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হয় এমন কিছু না করে ‘সঠিক পথে থাকতে’ দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন তিনি।

কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্য। জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাওয়া নাগরিকদের জন্য কিছু করা নিয়ে চাপে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো করোনার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেনি। এর মধ্যেই ধর্মঘট ডাকায় ব্যবসা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বলা হচ্ছে, গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় রেল ধর্মঘটের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্য।