নরসিংদীর ঘোড়াশালে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর শোকে ৪ ঘন্টা পর বড় ভাইয়ের মৃত্যু

মোঃ ফারদিন হাসান দিপ্ত: দুই ভাই এক সঙ্গে বড় হয়েছেন। তাদের ভাইদের মধ্যে ছিল প্রচন্ড মিল। একজন অপরজনকে ভালোবাসতেন বেশ। বড় ভাই অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘর বন্দি ছিলেন আর ছোট ভাই সুস্থ ছিলেন। অবশেষে ছোট ভাই বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মারা যান। সেই শোক সইতে না পেরে ৪ ঘন্টার মধ্যে আজ শুক্রবার রাত ২টার দিকে মারা যান বড় ভাই। মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায়। মারা যাওয়া ছোট ভাইয়ের নাম সানাউল্লাহ ভূঁইয়া (৬৫) ও বড় ভাই করিম ভূঁইয়া (৭০)। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সকালে খবর পেয়ে মৃত্যুবরণকারী দুই ভাইয়ের বাড়িতে ছুটে যান পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন। এসময় তিনি শোক শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং মরহুম দুই জনের রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, দুই ভাই উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার আঁটিয়াগাও গ্রামে বসবাস করতেন। এই গ্রামেই তাদের জন্ম। মৃত এমদাদ আলী ভূঁইয়ার ছেলে তারা দুই ভাই। ছোট ভাই সানাউল্লাহ ভূঁইয়ার স্ত্রী, পাঁচ সন্তান ও বড় ভাই করিম ভূঁইয়া র স্ত্রীসহ চার সন্তান রয়েছে। তাদের বাড়ির পাশেই একটি জুটমিলে চাকরি করতে ছোট ভাই আর বড় ভাই নিজ এলাকাই কাঠ মিস্তিরির কাজ করতেন। দুই ভাই একসঙ্গে বড় হয়েছেন। তাদের ভাইদের মধ্যে ছিল প্রচন্ড মিল ও গভীর ভালোবাসা। দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই করিম ভূঁইয়া অসুস্থ হয়ে ঘরবন্দি থাকেন। গত কয়েক দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এছাড়া ছোট ভাই সানাউল্লাহ ভূঁইয়া সুস্থই ছিলেন। বৃহস্পতিবার ১৭ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে খাবার খেয়ে পরিবারের সাথে ঘুমিয়ে পড়েন সানাউল্লাহ ভূঁইয়া। পরে রাত ১০টার দিকে বুকে প্রচন্ড ব্যাথা হলে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে অসুস্থ বড় ভাই করিম ভূঁইয়া শুক্রবার রাত ২টার দিকে মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে আসে এলাকার পরিবেশ। এদিকে আজ শুক্রবার ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মৃত্যুবরণকারী দুই ভাইয়ের জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।