ফুলবাড়িয়ায় ‘হুমগুটি’ খেলায় লাখো মানুষের ঢল।

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: জমিদার আমলে ‘পরগনা’ আর তালুক দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছিল প্রজাদের শক্তি পরীক্ষার ‘হুমগুটি’ খেলার মাধ্যমে। সেই থেকে পৌষ মাসের শেষ দিন ফুলবাড়িয়ায় বড়ইআটা গ্রামে ‘হুম গুটি’ খেলা হয়ে আসছে। এ বছর নিয়ে টানা ২৬৩ বছর ধরে খেলাটি চলছে।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকঢোল ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মুক্তাগাছা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ সদর ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দলবেঁধে হাজার হাজার খেলোয়াড় ও দর্শক খেলার মাঠে আসতে থাকে। দুপুরে ‘হুমগুটি’ পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিক তেলিগ্রাম বড়ইআটা ধানের পতিত মাঠে গুটি নিয়ে গেলে হাজার হাজার খেলোয়াড় গুটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ‘হুমগুটি’ ফুলবাড়িয়া-ময়মনসিংহ সড়কের দশমাইল নামক স্থানে একটি বিলে খেলাটি চলছিল। হাড়কাপা শীতকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার খেলোয়াড় খেলাটি খেলছে।

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে যেখানে দেশ দিশেহারা, সংক্রামণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকার সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা সামবেশ নিষেধসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফুলবাড়িয়া ‘হুমগুটি’ খেলার মাঠে হাজার হাজার খেলোয়াড় ও দর্শক উপস্থিত হতে থাকে। সন্ধ্যায় অন্তত লাখো মানুষের ঢল নামে খেলায়।

খেলোয়াড়রা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ চার ভাগে ভাগ হয়ে খেলতে থাকে। লম্বা বাঁশের মাথায় নিশানা (কাপড়) বাঁধা প্রত্যেক দলের। বেশ কয়জন খেলোয়াড়কে নিশানা হাতে নিয়ে খেলার সামনে দিক দেখাতে দেখা যায় খাল, বিল পুকুর, যেখানে হুম গুটি পরে যাচ্ছে সেখানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেলা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর দর্শকদের শত শত টর্চ লাইটের আলো খেলার দৃশ্য আরো উৎসবমুখর হয়ে উঠে।

হুমগুটি খেলাটির কেন্দ্র বড়ইআটা গ্রাম ছাড়াও দশমাইল, এগার মাইল, নয়নবাড়ি, লক্ষিপুর, তেলিগ্রাম, দেওখোলা, ভাটিপাড়া, কালিবাজাল, কুকরাইল, কাটাখালি, জোরবাড়িয়া, মোহাম্মদনগর, শুভরিয়া, বালিয়ান, ছাইতানতলা,বরুকা, বালাশ্বর, কাতলাসেনসহ বিভিন্ন গ্রামের উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

উল্লেখ্য, মুক্তাগাছার জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী ও বৈলরের জমিদার হেম চন্দ্র রায়ের মধ্যে জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একই জমিদারের ভুখণ্ডে দুই নীতির তীব্র প্রতিবাদ গড়ে উঠে। জমির বিরোধ মিমাংসাকল্পে দুই জমিদার তাঁদের সীমানার মধ্যস্থল ফুলবাড়িয়ার বড়ইআটা গ্রামে ‘হুমগুটি’ খেলার আয়োজন করেন। খেলার শর্ত ছিল বিজয়ী জমিদারের এলাকা হবে পরগনা, পরাজিত জমিদারের অংশের নাম হবে তালুক। পৌষ মাসের শেষ দিন বিকালে বড়ইআটা গ্রামের পতিত ধানের জমিতে দুই জমিদারের প্রজাদের মধ্যে ৪০ কেজি ওজনের পিতলের বল (হুমগুটি) ছেড়ে দেয়। শক্তি আর কৌশলের খেলায় মুক্তাগাছার জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর প্রজারা বিজয়ী হয়। সেই থেকে পরগনা এলাকার জমির পরিমাপ সাড়ে ৬ শাতংশে এক কাঠা।

 

 

পথিকটিভি/চৈতী