পোশাক ও ছবি দেখে ছেলেকে শনাক্ত করল মা,তার আগেই বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন ।

Spread the love

পোশাক ও ছবি দেখে ছেলেকে শনাক্ত করার পর মা জানতে পারলেন ১১ দিন আগে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করা হয়েছে। তার আগে প্রায় এক মাস বেওয়ারিশ হিসেবে মর্গে পড়েছিল ছেলের লাশ। গত বছরের ১৪ জানুয়ারি হাতিরঝিলের জলাশয় থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছিল। পরিচয় না পাওয়ায় এক মাস পর ১১ ফেব্রুয়ারি আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশ দাফন করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি মনোয়ারা বেগম নামের এক নারী হাতিরঝিল থানায় এসে দাবি করেন, দাফন করা লাশটি তাঁর ছেলে সাদমান সাকিবের।

মনোয়ারা বেগম‘ছেলেকে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু কবরটি শনাক্ত করা যায়নি। ওই দিন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম চারটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে। কোনটি আমার ছেলের, সেটি জানতে পারিনি

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু উদ্‌ঘাটন করা যায়নি।

 

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বলছে, সাদমানের পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে এমন ঘটনা খুব বেশি ঘটে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা লাশের পরিচয় শনাক্ত হয় না। এক যুগে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ১৩ হাজার ৩২৪টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে। এই হিসাবে প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার ১০০–এর বেশি লাশ দাফন করে সংস্থাটি।

পুলিশ বলছে, অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধার হলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তারপর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে লাশ পাঠানো হয়। লাশ দেখে হত্যার আলামত বোঝা গেলে হত্যা মামলা করে পুলিশ। অন্যথায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়। লাশ সংরক্ষণের পর যখন বুঝতে পারে তার আর কোনো স্বজন পাওয়া যাবে না, তখন তারা লাশ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, লাশ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তা আঞ্জুমান মুফিদুলকে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা নেই। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে লাশ সংরক্ষণ করার সুযোগ নেই।

 

১০০ বছরের বেশি সময় ধরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ লাশ দাফনের কাজটি করছে। বেওয়ারিশ লাশ সৎকারের জন্যই ১৯০৫ সালে সংস্থাটির গোড়াপত্তন করা হয়। এখন বেওয়ারিশ লাশ দাফনের পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে সংস্থা। সূত্র: প্রথম আলো

 

পথিকটিভি/চৈতী