তিনদিনের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরতে বাধ্য হলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী-বিবিসি

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক:  অশালীন মন্তব্য করার জের ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগকারী মোঃ মুরাদ হাসান বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেলেও আবার তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।

রবিবার বিকাল পাঁচটার দিকে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

এরপরই তাকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলাদেশের বিমান প্রতিমন্ত্রী মোঃ শওকত আলী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে কথা বলছেন ইমিগ্রেশন এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

ছয়টার একটু পরে মুরাদ হাসান বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যান।

সাংবাদিকরা এই সময় ভিআইপি গেটের সামনে অপেক্ষা করলেও, তিনি অন্য একটি গেট দিয়ে বেরিয়ে গেছেন বলে একজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।এর আগে বাংলাদেশ ও কানাডার একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান কানাডা পৌঁছালেও সেখানকার কর্তৃপক্ষ তাকে সেদেশে ঢুকতে দেয়নি। ফলে তিনি দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। তবে এই তথ্য বিবিসি বাংলা যাচাই করে দেখতে পারেনি।

 

রবিবার বাংলাদেশের তিনটি জেলায় তার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। তাতে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে আদালত এসব আবেদনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি।দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ন’টার দিকে তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিল।

মুরাদ হাসান এখন মন্ত্রী না থাকলেও এমপি রয়েছেন। ফলে লাল পাসপোর্ট তার আছে এবং তা নিয়ে তিনি বিদেশ গেছেন বলে জানা গেছে।বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা সে সময় বিবিসিকে জানিয়েছেন, মুরাদ হাসান রাত সাড়ে ন’টার দিকে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে যান।

ঢাকা থেকে দুবাই হয়ে তিনি কানাডার যাবার জন্য এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ধরেছেন বলে কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতা তারেক রহমানের কন্যাকে নিয়ে নারী-বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা এবং ফাঁস হওয়া একটি টেলিফোন আলাপে একজন চিত্রনায়িকার সাথে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠার পর মুরাদ হাসানকে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে।

বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে মুরাদ হাসানের মন্তব্যের ব্যাপারে সমালোচনার মধ্যেই তার একটি টেলিফোন আলাপ ফাঁস হয় গত রোববার। তাতে তাকে একজন নায়িকার সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়। এক পর্যায়ে তিনি ওই নায়িকাকে ধর্ষণেরও হুমকি দেন।

এই আলাপ ফাঁস হওয়ার পর তীব্র নিন্দার মুখে তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে যান।এরপর গত সোমবার রাত প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

পরদিন মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগ পত্র পাঠান এবং সেদিনই তিনি গোপনে ঢাকায় আসেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন।পদত্যাগের পর মি. হাসান সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন এবং তাতে তিনি লিখেছিলেন, যদি তার কোন ভুল হয় তাহলে যেন ক্ষমা করা হয়।

সূত্র: বিবিসি

পথিকটিভি/এল এইচ জিহাদ