কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাকই দক্ষিণ ইউপির কোটইশা গ্রামে করোনার টিকা প্রয়োগের ১দিন পর শনিবার ভোর রাতে সামছুন্নাহার (৬০) নামে এক গৃহবধুর আকষ্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত ছাড়া গোপনে মরদেহ দাফন করায় নানান বির্তকে কানাঘুষা চলছে এলাকার জনমনে। মরহুম গৃহবধু ওই গ্রামের মৃত সামছুল হকের স্ত্রী।
স্থানীয় একাধিক ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের সামছুন্নাহার (৬০) নামে এক গৃহবধু ৯ ডিসেম্বর ২০২১ সন্ধায় করোনার টিকা ২য় ডোজ প্রয়োগ নেয়ার আধাঘন্টা পর তার শরীরে পাশর্^প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে ওই গৃহবধুর পেট ও মাথা ব্যথাসহ বমি শুরু হলে স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারী অজিফা বেগমের কাছ থেকে কোন চিকিৎসা না পেয়ে তার স্বজনরা লাকসাম পৌরশহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার পর ওই গৃহবধুর শারীরিক অবস্থা মারাত্মক অবনতি দেখা দিলে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গৃহবধুকে দ্রæত কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ওই গৃহবধুর স্বজনরা তাকে কুমিল্লা সিডিপ্যাথ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকগণ তাঁকে তাৎক্ষনিক আইসিউ’তে নেন। কিছুক্ষন পর ওই গৃহবধুর মৃত্যুর ঘটনা স্বজনদের জানান। তবে ওই গৃহবধুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা রির্পোটে তাঁর শরীরে ডায়বেটিস, পেশার রোগ ছিলো। তবে তিনি হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করতে পারেন বলে ধারনা চিকিৎসকদের। প্রকাশ থাকে ওই গৃহবধু ৩০ নভেম্বর ২০২১ করোনার ১ম ডোজ টিকা নিয়েছিলো স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী অজিফা বেগমের কাছ থেকে। ওই গৃহবধু ৮ দিনের মাথায় ১ম ডোজ ও ২য় ডোজ করোনা টিকা নেয়ায় তাঁর শরীরে পাশর্^প্রতিক্রিয়া মৃত্যুর অন্যতম কারন বলে ধারনা এলাকাবাসীর। উল্লেখ্য ওই স্বাস্থ্যকর্মী অজিফা বেগমের বিরুদ্ধে নানাহ অভিযোগ এলাকার জনমনে বিদ্যমান রয়েছে।
মরহুম গৃহবধুর ছেলে শহিদুল ইসলাম ও মেয়ে মাহমুদা বেগম জানায়, আমাদের মা করোনা টিকা কার্ডে সময় মতো নির্ধারিত তারিখে টিকা দিতে না পারায় অবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী অজিফা বেগমের ওই গ্রামের তার নিজ বাড়ীতে ১ম ডোজ ৩০ নভেম্বর ২০২১ সন্ধ্যায় প্রয়োগ করেন এবং ওই স্বাস্থ্যকর্মী অজিফা তার বাড়ির রাস্তার উপর আমার মাকে ৯ ডিসেম্বর পুনরায় ২য় ডোজ করোনা টিকা প্রয়োগ করেন। ঘটনার দিন আমার মায়ের শরীরে বিভিন্ন পাশর্^প্রতিকিয়া দেখা দিলে তার অসুস্থ্যতার খবর নিয়ে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে বার বার গেলেও তিনি আমার মাকে দেখতে আসেনি। এমনকি এ টিকা কার্ড বাবত আমার মায়ের কাছ থেকে ৩’শ টাকা নিয়েছেন বলে আমার মা মৃত্যুর ৩ দিন আগে আমাদেরকে জানিয়েছেন। আমরা শোকাহত পরিবার আমার মায়ের মৃত্যুর জন্য স্বাস্থ্যকর্মী অজিফাকে দায়ী করছি। এ ব্যাপারে আমরা আপনাদের মাধ্যমে সু-বিচার প্রার্থনা করছি।
স্থাণীয় ওয়ার্ড মেম্বার আবু তাহের এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তবে ওই গৃহবধুর মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন বিষয়ে কেহ কোন কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বাস্থ্যসহকারী অজিফা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে স্থাণীয় ইউিিপ চেয়ারম্যানের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বলে জানায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম জানায়, ওইদিন ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে আমি তাৎক্ষনিক ওই গ্রামে মৃত গৃহবধু সামছুনাহারের বাড়ী গিয়ে বিস্তারিত অবগত হই এবং তাঁর সকল চিকিৎসার কাগজপত্র দেখি। এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির চ’ড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।