কুমিল্লার লাকসামে ভাসুর পিটিয়েছে ছোট ভাইয়ের বউকে

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ দক্ষিন ইউপির রাজাপুর গ্রামে শনিবার সকালে বাড়ী যাওয়া পথের রাস্তা ঘিরে ভাসুর নুরুজ্জামান পিটিয়েছে ছোট ভাই হামিদুল হকের স্ত্রী রেহানা আক্তারকে। গুরুতর আহত গৃহবধু রেহানা আক্তার বর্তমানে লাকসাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
ঘটনাসূত্রে ও স্থানীয় একাধিক লোকজন জানায়, ওই ইউপির রাজাপুর গ্রামে মৃত ইছহাক মিয়ার পুত্র নূরজ্জামান ও ছোট ভাই হামিদুল হকের সাথে বাড়ি পথের জায়গাসহ পারিবারিক নানান বিষয় নিয়ে আভ্যন্তরিন কোন্দল চলে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। পারিবারিকসহ অন্যান্য বিষয়ে একাধিক মামলা রয়েছে অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে ছোট ভাই হামিদুল হক তার বাড়ি যাওয়া পথের রাস্তা নির্মাণ করে চলে গেলে রাতেই বড় ভাই নুরুজ্জামান ওই পথের রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিলে, শনিবার সকালে উভয়পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয় উভয়ের স্বজনদের মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দু’পরিবারের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলায় উভয়পক্ষের ৮ জন আহত হয়। ওইসময় বড় ভাই নুরুজ্জমানের হাতে থাকা দা’র কোপে ছোট ভাই হামিদের স্ত্রী রেহানার কান ঘেঁেষ গলা পর্যন্ত কেটে রক্তক্ষরন শুরু হলে রেহানার আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাৎক্ষনিক তাঁকে লাকসাম সরকারি হাসপাতালে পাঠায় এবং আহত রেহানার স্বামী হামিদুল হক পাখি (৪৫), ফারহানা আক্তার (৩৪), মনোয়ারা আক্তার (৩৮), হালিমা বেগম (৩২) ও জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া (২২) কে স্থাণীয় ভাবে চিকিৎসা করা হচ্ছে। অপরদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই নুরুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী ছালেহা বেগমসহ আরও ২ স্বজন আহত হয়ে স্থানীয় নাসা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে উভয়পক্ষই সামাজিক মিমাংসা কিংবা আইনী সহায়তা নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ।
এ বিষয়ে নুরুজ্জামান ও হামিদের ছোট ভাই ডাঃ দেলোয়ার হোসেন জানায়, আমাদের ৮ ভাইয়ের মধ্যে অভিযুক্ত নুরজ্জামান ছাড়া সবাই একে অপরের সাথে মিলিত ভাবে যে যার মতো সংসার চালাচ্ছি কিন্তু নুরুজ্জামান একটু বেপরোয়া প্রকৃতির লোক। তার সাথে আমাদের কোন ভাইয়ের মিল নেই। নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে পারিবারিক ছাড়াও এলাকার নানান অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। শনিবারের পথের জায়গা নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে সংর্ঘষ এটি নেক্কারজনক ঘটনা এবং তিনি পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিভিন্ন অংগে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, আমার জায়গার উপর দিয়ে তারা (হামিদ) পথের রাস্তা নির্মাণ করতে গেলে, আমি ও আমার স্বজনরা প্রতিবাদ করায় হামিদুল হক গং আমার ও স্ত্রী-স্বজনদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে মারধর করেছে। চিকিৎসা সনদ নিয়েছি। আইনী সহযোগিতা কিংবা সামাজিক ভাবে মিমাংসার চেষ্টা চলছে।