নরসিংদীতে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

ফারদিন দিপ্ত,নরসিংদী:  নরসিংদীর রায়পুরায় বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান রাতুল হাসান জাকিরকে দেশিয় অস্ত্র ও গুলি সহ গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় সঙ্গে থাকা তার বন্ধু ফয়সাল আহমেদ সুমনকে ও গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার রাতে  ঢাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার  করা হয়।
সোমবার বিকালে নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান। গ্রেপ্তারকৃত রাতুল হাসান জাকির (৩২) বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে ও ফয়সাল আহমেদ সুমন (৩৫) বটতলিকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাতুল হাসান জাকির এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য প্রতিপক্ষ লোকদের উপর টেঁটা,  বল্লম,ককটেল, দেশিয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। এলাকায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙ্গচুর ও অগ্নি সংযোগ করে। বাঁশগাড়িতে টেটাযোদ্ধের মূল হোতা হচ্ছেন রাতুল ও সুমন।
গত ১১ নভেম্বর বাঁশগাড়ি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নৌকা প্রতিকে  আশরাফুল হক সরকার প্রতিদ্বন্ধীতা করে আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতিকের জাকির হোসেনের সাথে । এ নিয়েই বেশ কয়েকদিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।
১১ তারিখ নির্বাচনে আশরাফুল হক সরকারের কোন সমর্থক যাতে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য রাতুল হাসান জাকির দেশিয় অস্ত্র,  টেঁটা,  ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এতে নির্বাচনী সহিংসতায় দুলাল, সালাহউদ্দিন  ও জাহাঙ্গীর নামে তিনজন নিহত হয়। ওই নির্বাচনে রাতুন হাসান জাকির বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।
পরে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের পরিবার রাতুল  হাসান জাকিরসহ অঞ্জাতদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে রাত ২ টা ৩০ মিনিটে বাঁশগাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুটি ওয়ান শটারগান, ৪ রাউন্ড কার্তুজ ও রামদা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র নির্বাচনী হত্যাকান্ডে ব্যবহার করার কথা তারা স্বীকার করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রাতুল হাসান জাকিরের বিরুদ্ধে হত্যা, দাঙ্গা, অস্ত্র সহ ২২ টি মামলা ও ও তার বন্ধু ফয়সাল আহম্মেদ সুমনের বিরোদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা সহ ৯টি মামলা রয়েছে।  অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা করবে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, চরাঞ্জলে যারা দাঙ্গা হাঙ্গামায় জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। ইতিমধ্যে দাঙ্গার মূলহোতাদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দ্রুতই চরাঞ্জলের দাঙ্গা হামলায় জড়িত সকল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।