যত অপকর্ম পিয়াসা-মৌয়ের

Spread the love

টার্গেট ছিল উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। রাজধানীর অভিজাত আবাসিক অঞ্চলে পার্টির আমন্ত্রণ জানানো হতো তাদের। এরপর আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা হতিয়ে নিতো। মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং মরিয়ম আক্তার মৌকে (মৌ আক্তার) এর নিয়ম ছিল এমনই।

গতকাল রবিবার রাজধানীর বারিধারা থেকে মডেল পিয়াসা এবং মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে মডেল মৌ আক্তারকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

 

পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবি উত্তরের যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর রশীদ জানান, আটক হওয়া পিয়াসা ও মৌ আক্তার একটি সংগবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। বিভিন্ন সময় উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে পরবর্তীতে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করা হতো।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বরিধারা ও মোহাম্মপুরের বাসা থেকে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। তাদেরকে আটক করা হয়েছে। সোমবার গুলশান ও মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হবে

 

তিনি আরও বলেন, আটক দুই মডেল হচ্ছেন রাতের রানী। তারা দিনের বেলায় ঘুমান এবং রাতে এসব কর্মকাণ্ড করেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন তারা।

পার্টির জন্য তরুণ ছেলেরা বাসায় আসলে মডেলরা তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। পরবর্তীতে তারা সেসব ভিডিও এবং ছবি ভিক্টিমদের পরিবারকে পাঠাবে বলে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন।

ডিবি কমিশনার হারুন জানান, আটক মডেলদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ থাকায় আলাদা মামলা হবে। এসব মামলায় আমরা তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

২০১৭ সালে মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে নাম ছিল মডেল পিয়াসার। এশিয়ান টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক এবং প্রিভিউ কমিটির প্রধান ছিলেন ফারিয়া পিয়াসা। এনটিভির রিয়েলিটি শো ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’র অন্যতম প্রতিযোগী ছিলেন তিনি। সর্বশেষ গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের পর যে মামলা হয়েছিল তাতেও পিয়াসার নাম ছিল।