কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলে ছাদ বাগানের আগ্রহ বাড়ছে ভবন মালিকদের

Spread the love

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসামঃ  কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে নানান ধরনের ফল-ফলাদি ও ঔষুধি গাছ বপনে ছাদ বাগানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এ অঞ্চলের ভবন মালিকদের। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ইট-কাঠের চাঁপে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার সবুজ বাগান। সবুজে ভরা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঘিরে বেড়ে উঠা নাগরিক সমাজের একটি অংশ সবুজ বাগান ধরে রাখতে চায়। দালান-কোঠার আবাসস্থল এলাকার সৌখিন মানুষরা একান্ত নিজস্ব ভাবনা আর প্রচেষ্টায় ভবনের ছাদে শাক-সবজিসহ নানান ধরনের ফল-ফলাদির গাছ বপন করে তৈরি করছেন ছাদ বাগান।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এছাদ বাগান শুধুই সবুজ উপকরণ ধারন করে ক্ষান্ত হয় না, এলাকার পরিবেশ ও মানবদেহে পুষ্টি জোগাতে অন্যতম সহযোগিতার উৎস্য হিসেবে কাজ করে থাকে। ছাদ বাগান তৈরির প্রয়াস এখন শুধু ভবনের আবাসস্থলেই সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে নানাহ কর্মস্থল ও বাসা-বাড়ির আঙ্গিনায়। পৌরশহরের বেশি ভাগ ভবনের ছাদে এ সবুজ বাগান চোখে পড়লেও গ্রামাঞ্চলে তার চর্চা অনেক কম। ছাদ বাগানগুলোতে শোভা পাচ্ছে ফুল, ফল আর নানান ধরনের সবজি গাছ। অপরদিকে বর্তমান সরকার ইতি মধ্যে ছাদ বাগান মালিকদের উৎসাহ জোগাতে হোল্ডিং টেক্স কমানো এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছেন।
পৌর শহরের ভবন মালিকদের একাধিক সূত্র জানায়, সখের মৌহে এ ছাদ বাগান তৈরি করছি আমরা। কীটনাশক ও ভেজালমুৃক্ত সবজি এবং ফল ফলাদি উৎপাদন করাই আমাদের লক্ষ্য। এ ছাদ বাগান থেকে ফল-সবজি পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা খাচ্ছি। এতে কোন ভেজাল কিংবা রাসায়নিক দ্রব্যের কোন মিশ্রন নেই। এক একটি ভবনের ছাদে সবজির পাশাপাশি প্রায় ৬০/৬৫ প্রজাতির ফুল ও ফল গাছ রয়েছে। পুরো বছর জুড়ে এছাদ বাগানের নানান ধরনের সবজি- ফল আমরা খেয়ে আসছি। যার কোন কমতি নেই। তবে কিছু কিছু ফল ও সবজি বাজারে বিক্রি করেও কিছু টাকা আয় হয়।
ওই সূত্রটি আরও জানায়, এ অঞ্চলের প্রতিটি ভবনের ছাদে এ ধরনের ছাদ বাগান তৈরি করলে মানব দেহের পুষ্টির জোগানসহ এলাকার নানাহ পরিবেশ দূষনের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। বেশ ক’টি ভবনের ছাদ বাগানে দেখা য্য়া সবজির মধ্যে পুদিনা, ধনিয়া, টমেটো, লাল শাক, পালং শাক, চুয়াই, মূলা, মরিচ, পেয়াজ, শসা, করোলা, শীম, ঝিঙ্গা এবং ফল-ফলাদির মধ্যে আম, পেয়ারা, পেঁপে, লেবু, মাল্টা, কমলা, তেজপাতা, জাম্বুরা, কাঠালসহ নানান ধরনের গাছ ও ফুলের মধ্যে গাঁধা, ডালিয়া, সূর্যমুখি, গোলাপ, হাসনাহেনা, মরিচাসহ নানান ফুল গাছ শোভা পাচ্ছে।
জেলা দক্ষিনাঞ্চলগুলোর কৃষি দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানায়, জমিতে যে সব সবজি ও ফুল-ফলাদি এলাকার মানুষ চাষাবাদ করতে চিন্তা করে না কিন্তু সেসব প্রজাতির সবজি ও ফুল-ফলের এখন চাষাবাদ হচ্ছে এ অঞ্চলের বেশির ভাগ ভবনের ছাদ বাগানে। এমন ছাদ বাগান কৃষির মাধ্যমে সাংসারিক জীবনে মানুষ দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা প্রয়োজন মতো মিটাতে পারছেন। ছাদ বাগানে জন্মানো বিদেশী অনেক ফল বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে অর্থ আয়ের মাধ্যমে সংসারে কিছু হলেও সহযোগিতা হবে। তাই ছাদ বাগানে জন্মানো শাক-সবজি কিংবা ফুল ও ফল খুবই ভালো এবং স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিমান সমৃদ্ধ।
এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা কৃষিদপ্তর বন বিভাগসহ স্থানীয় পুষ্টিবিদদের মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।