অচিরেই চাঁদপুরের ডাকাতিয়া রূপ নিবে বুড়িগঙ্গায়, দায়ী অসাধু ব্যবসায়ী, নীরব ভূমিকায় কর্তৃপক্ষ

Spread the love
মোঃ জাবেদ হোসেনঃ চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজারে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের খামখেয়ালীপনায় দূষিত হচ্ছে ডাকাতিয়া নদীর পানি। চাঁদপুর পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ড ওয়ারলেস বাজারের মুরগি ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে ট্রাকভর্তি করে মৃত-মুরগি, মুরগির নাড়ি-ভুড়ি, মুরগির অপ্রয়োজনীয়’ উচ্ছিষ্টাংশ ও পঁচা খাদ্য গাছতলা ব্রিজ থেকে ডাকাতিয়া নদীতে প্রতিনিয়ত ফেলে যায়।তারা ডাকাতিয়া নদী কে ব্যবহার করছে ডাস্টবিনের মত। এতে করে নদীর অপরাময় পরিবেশ সহ বিনষ্ট হতে চলেছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাতের আধারে কিছু সংখ্যক যুবক ট্রাক বোঝাই করে বহু সংখ্যক মৃত মুরগি, মুরগির রক্ত, মলমূত্র, নাড়িভুঁড়ি, মুরগির পাখনা সহ মুরগির বিভিন্ন উচ্ছিষ্টাংশ নদীতে ফেলছে।এ বিষয়ে তাদের নিকট জানতে চাইলে তারা জানান আমরা দীর্ঘদিন এভাবেই ওয়ারলেস বাজারের মুরগি ব্যবসায়ীদের এসব বর্জ্য প্রতিদিন রাতে মৃত মুরগি, মুরগির রক্ত, মলমূত্র, নাড়িভুঁড়ি, মুরগির পাখনা সহ মুরগির বিভিন্ন উচ্ছিষ্টাংশ নদীতে ফেলে আসছি।কোন কোন দোকানের এই সকল বর্জ্য গুলো নদীতে ফেলা হয় এমনটি জানতে চাইলে তারা জানান বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী বশির গাজী, মাসুম গাজী, ইসমাইল বরকন্দাজ, রেদোয়ান গাজী এবং ব্যবসায়ি বশিরের দুলা ভাইয়ের দোকানের এই বর্জ্য গুলো এই ডাকাতিয়া নদীতে এনে ফেলি।

গাছতলা ও ঘোড়ামারা আশ্রয়ন প্রকল্পের লোকজন জানান মুরগি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হওয়ার সুবাদে বীরদর্পে এই অন্যায় কাজটি করে যাচ্ছে।আমরা বিষয়টি একাধিক বার প্রতিবাদ করলেও তারা কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে বরং তারা তাদের এই ঘৃনিত কাজটি নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছে।

তাদের এই কর্মকাণ্ডে আমরা স্থানীয়রা খুবই আতঙ্কিত এবং ডাকাতিয়া নদীর এই পানি ব্যবহার অনুপোযোগী হওয়ার আশঙ্কা ভয়াবহ ও মারাত্মকভাবে বিরাজমান।এসকল বর্জ্য নদীতে ফেলার জন্য দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ডাকাতিয়া নদীর পানি।নদীতে দেখা যায় যে মরা মুরগি, মুরগির নাড়ি-ভুড়ি মুরগির পালক নদীর বিভিন্ন স্থানে আটকে রয়েছে। এতে করে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে।
আমরা প্রায় সময় দেখি নদীর বিভিন্ন প্রজাতি দেশীয় মাছ মরে ভেসে যাচ্ছে।

এছাড়াও চাঁদপুর পৌরসভার পানি উত্তোলনের ট্যাংকিটি গাছতলা ব্রিজের নিচে অবস্থান।যে পানি শহরের মানুষগুলো ব্যবহার করতে যাচ্ছে।এসকল বিবেকহীন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য যদি দিন দিন বাড়তেই থাকে তাহলে এই ডাকাতিয়া নদীর পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে এবং অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস পাবে বলে আশংকা করছেন পরিবেশবিধগণ সহ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ।

কিছুদিন পূর্বে ও ডাকাতিয়া নদীর পানির অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমে নদীর শত শত প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠতে দেখা গেছে।এ বিষয়ে সচেতন মহলের পরামর্শ হল এর বিরুদ্ধে এই মুহূর্তেই দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অতি শীঘ্রই ডাকাতিয়া নদীটাও বুড়িগঙ্গা নদীর মত হয়ে যাবে। ।