মেয়র নির্বাচিত হয়েও সেই আশরাফ গেলেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর ঘরে 

Spread the love
মানিক ঘোষঃ  আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল। চলতি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী সেই আশরাফুল আলম আশরাফ জয়ী হয়ে গেলেন বিএনপি দলীয় ধানের শিষের প্রার্থী আলহাজ্ব মাহাবুবারের ঘরে।
এ সময় মেয়র আশরাফ সাবেক মেয়র বয়স্কো মাহাবুবারের সাথে করমর্দন ও ক’শল বিনিময় করে সহযোগীতা কামনা করেন। তিনিও হাসিমুখে বরন করে নির্বাচিত পরিষদকে স্বাগত জানান। খুশিতে আপ্যায়নও করেছেন সাধ্যমত। মনোনয়ন পেয়েই আশরাফুল আলম আশরাফ আগে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কাছে দোয়া চাইতে আলহাজ্ব মাহাবুবারের ঘরে গিয়েছিলেন। সে সময়েও দৈনিক সংবাদ ও খুলনাঞ্চালের শেষ পাতায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে বিষয়টি প্রশংসায় ভাইরাল হয়।
পৌর নাগরিকদের ভাষ্য,দেশে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে মাঠ দখল, মারামারি সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার খবরটিও শোনা যায়। কিন্ত গত ২৮ তারিখের নির্বাচনের দিন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভায় এমনটি দেখা যায়নি। কাশিপুর নামের একটি গ্রামে কিছুটা ঘটেছিল তা ছিল দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নয়। এটা ছিল একটি গ্রামের ভোট কেন্দ্রের অনেক বাইরে আওয়ামীলীগ সমর্থনকারী দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। তবে প্রশাসনের ভূমিকায় কিছুক্ষনের মধ্যেই তা থেমে গিয়েছিল। এটা কোনভাবেই আওয়ালীগ –বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে নয়।  পৌর সভার ভোটার রবিউল ইসলাম জানান, নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীর হাসিমুখে কূশল বিনিময় কালীগঞ্জবাসীকে শান্ত করে দিয়েছে। তাছাড়াও দেশের অন্য দুই একটি স্থানের ভোটে যেভাবে সহিংসতার খবর মিডিয়ার মাধ্যমে দেখি, সেই তুলনায় কালীগঞ্জ ছিল ব্যতিক্রমী। আওয়ামীলীগের প্রার্থী আশরাফুল আলম আশরাফ একজন নবীন প্রার্থী। আর আলহাজ্ব মাহাবুবার রহমান বিএনপির মনোনিত প্রার্থী। নির্বাচনের দিন কোন রকমের সহিংসতা ছাড়ায় সুষ্ঠুভাবে  শেষ হয়েছে। নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের আশরাফ জয়ী হয়েছেন। পরাজিত হয়েছেন আলহাজ্ব মাহাবুবার রহমান। কিন্ত তিনিও এক সময় মেয়র ছিলেন। অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও ভদ্র মানুষ। নির্বাচনের আগে ও পরে দুই দলের দুই প্রার্থীর একসাথে বসে কূশল বিনিময় আপ্যায়ন একদিকে  অন্যদিকে শ্রদ্ধা এ দুটিতে কালীগঞ্জের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পৌর নাগরিক এমদাদুল ইসলাম ইনতা জানান,কেন্দ্রিয় মনোনয়ন বোর্ড ঘোষিত নিজ নিজ দলের মনোনয়ন ও প্রতিক পেয়ে আ’লীগ-মেয়র প্রার্থী নৌকার বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ এক মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। ভোটে বিজয়ী হওয়ার পরও আশরাফুল আলম আশরাফ প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শিষের প্রার্থী আলহাজ্ব মাহাবুবার রহমানের অফিসে গিয়ে সহযোগীতা কামনা করে দোয়া চেয়েছেন। নবনির্বাচিত মেয়রকে কাছে পেয়ে তিনিও তার আপ্যায়নে কমতি রাখেননি। এ সময় তারা একই স্থানে বসে কুশল বিনিময়, পরষ্পরে করমর্দন ও হাসিমুখে তাদের ভাব বিনিময়টা ছিল এমন,আমরা পরষ্পরে নিজ দলের পক্ষে ভোটে যুদ্ধে নেমেছিলাম। কিন্ত ব্যক্তিগতভাবে কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বি নয়। তাদের মধ্যে এমন ভাবটা সকলকে খুশি করেছে। তাদের প্রসংশা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজয়ী আশরাফুল আলম আশরাফ জানান, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিএনপি’র আলহাজ্ব মাহাবুবার রহমান একজন বয়ষ্কো মানুষ। দল ভিন্ন হলেও উনি অনেক অভিজ্ঞ মুরব্বী। আগে তিনি মেয়রও  নির্বাচিত হয়েছিলেন ফলে তার অভিজ্ঞতাটাও আমার কাজে লাগতে পারে। আমার দলের নেত্রীর নির্দেশ বয়ষ্কোদের সম্মান করা। তাই আমি নিজে এগিয়ে গিয়ে এটা করেছি। উনিও আমাকে পেয়ে খুশি হয়েছেন। যথেষ্ট আপ্যায়নও করেছেন।  আমি উনার কাছে দোয়া ও সহযোগীতা চেয়েছি। উনার আপ্যায়ন আমাকে মুগ্ধ করেছে।
আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান নেতা কালীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ইসরাইল হোসেন জানান, ভোটের আগে ও পরে তাদের দুই জনের হাসিমুখের শুভেচ্ছা বিনিময় দেখে মনে হচ্ছে কালীগঞ্জবাসীর জয় হয়েছে। জীবনভর নিজের চিন্তা না করে দলের ভাবনাটা ভেবেছি। এখন দেখছি আমরা ভবিষৎ প্রজন্ম যা রেখে যাচ্ছি তারা অবশ্যই ভালো করবে।