ময়লার দুর্গন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্বমেড্ডার তিতাস পাড়ের জনজীবন অভিশপ্ত : রাবেয়া জাহান

Spread the love

শ্বাস বন্ধ করে পথচারী আর কতো কাল দিবে পথপাড়ি। তিতাসের পাড়ি  দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা নাক বন্ধ করে দৌড়ে পথ পাড়ি দিচ্ছে।তিতাস এখন বাঁচতে চায়, লড়তে হবে আইনি লড়াই। আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলছেন, আদালতের ঘোষণা অনুযায়ী তুরাগসহ নদ-নদীগুলো এখন থেকে মানুষ বা প্রাণী যেমন কিছু আইনি অধিকার পায় তেমনি অধিকার পাবে। সকল নদ নদী এখন জীবন্ত সত্তা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর অধিকার নিয়ে বলার কি কেউ নেই? নদীটি আজ মৃত প্রায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অহংকার এবং পরিবেশ রক্ষার রক্ষাকবচ তিতাস নদী এখন ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছে। একটি নদী তার আশে পাশের পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখে এবং নির্মল বাতাস প্রদান করে। কিন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্ব মেড্ডায় তিতাস নদীর বুক থেকে চারিদিকে ছড়াচ্ছে শুধু দুর্গন্ধ আর দুর্গন্ধ । তিতাস নদীর পাড়ের এই ব্যস্ত রাস্তায় ,শহরের যাবতীয় ময়লা ফেলানো হচ্ছে। ময়লার পাহাড় দিন দিন এতটাই বিস্তৃত হচ্ছে যে জনহুল এই জায়গাটি আজ অভিশপ্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে।  নদীর তীরে গড়ে উঠা এই ময়লার স্তুপের পশ্চিম দিকে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বক্ষব্যাধি ক্লিনিক যেখানে যক্ষা রোগীদের চিকিৎসা করা হয়। ২০১৯ সালে বক্ষব্যাধির মেডিকেল কনস্যালট্যান্ট ডাঃ মোহাম্মদ আমির হোসোন মিয়া এই সমস্যার প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় অনুলিপি দিয়েছেন। এই পর্যন্ত ডাক্তাররা বহুবার এই অবর্জনা উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান পাননি। তিতাস নদীর আবর্জনার এই স্তুপের উত্তর দিকে রয়েছে মেড্ডা কাচা বাজার, যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষকে এই দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে।  পূর্ব দিকে নদীর ঐ পাড়ে রয়েছে দুটি গ্রাম, যে গ্রামের মানুষগুলোকে এই আবর্জনা আর দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন আসা যাওয়া করতে হয়।  এছাড়া নদীর দক্ষিণ দিকে রয়েছে জনবসতি। দুর্গন্ধে এখানকার মানুষ অত্যন্ত মানবেতর এবং অভিশপ্ত জীবন যাপন করছে। মেড্ডা এলাকার রন্ধ্রেরন্ধ্রে আজ অসুখ বাসা বেধেছে। প্রথমত নদী ধংস ,দ্বিতীয়ত তিতাসের পাড় ঘেষে রাস্তায় চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ, এই ময়লা আবর্জনা থেকে সৃষ্ট জীবাণু দ্বারা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, সর্বোপরী একটি সরকারী হাসপাতাল এই ময়লার দুর্গন্ধে আজ মর্মান্তিক যন্ত্রণায় ভুগছে। পৌরসভার ময়লা থেকে শুরু করে দূর দুরান্তের ময়লা এনে এখানে নিক্ষেপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি শিঘ্রই এর একটি প্রতিকার না করে তাহলে এখানকার সাধারণ এবং অসহায় মানুষদের বিষাক্ত হাওয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হবে।