বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ৬৩, আতংকে ঘুম নেই অপরাধীদের

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসামঃ

কুমিল্লার লাকসাম থানা পুলিশ মাসব্যাপী অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ৬৩ জনকে
গ্রেপ্তার করেছে এবং পুলিশের এ অভিযানের ফলে পৌরশহরসহ উপজেলার সর্বত্র অপরাধীদের ঘুম
নেয়। পুলিশের এ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সকল শ্রেনী পেশার মানুষ।
স্থানীয় পুলিশের দেয়া তথ্য মতে জানা যায়, বছরের শুরুতেই পুরো জানুয়ারী মাস
জুড়ে চলছে পুলিশের বিশেষ অভিযান। বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা
পৌরশহরসহ উপজেলা সর্বত্র এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এতে বিজ্ঞ আদালতের সি.আর ও
জি.আর মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ৪৪ জন, আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ৬ জন, ২৯০ ধারায় ২ জন,
মাদক মামলায় ২ জন, নিয়মিত মামলার আসামী ৯জনসহ ৯টি নানাহ অভিযোগে মামলার
নিঃস্পত্তির আসামীসহ ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া ৭ মামলার ১ আসামী এবং
মাদক ও চেরাই মালামাল উদ্ধার করেছে এ অভিযানে পুলিশ।
অপরদিকে এলাকার পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ, নারী নির্যাতন ও জমি- জমা সংক্রান্ত
বিরোধসহ নানান অভিযোগ ঘিরে থানা পুলিশের গোল ঘর ও ইউনিয়নগুলোর গ্রাম্য আদালতে
প্রায় ৬০/৬২টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী থানা
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ বহর পৌরশহরের
দৌলতগঞ্জ বাজার এলাকায় বিভিন্ন ফার্নিচার কারখানা ও হোমিওপ্যাথী ফার্মেসীতে
অভিযান চালিয়ে ওইসব প্রতিষ্টানের মালিক ও চিকিৎসকদের এ্যালকোহল, স্পিরিট ও মিথানল
নামক মাদকপন্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রথম বারের মত সতর্ক করেছেন।
এ বিশেষ অভিযান ঘিরে একান্ত আলাপচারিতায় লাকসাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
তদন্ত মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পুলিশের এ অভিযান একটা রুটিন ওয়ার্ক। সবসময়
এটা হয়ে থাকে। বর্তমানে এ থানায় যে পুলিশ সদস্য রয়েছে তা এলাকার জনসংখ্যার
তুলনায় অপ্রতুল। সে ক্ষেত্রে এলাকার বিভিন্ন অপরাধীদের খুঁজে পেতে থানা পুলিশকে
সার্বিক ভাবে সকল শ্রেনি পেশার মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। তবে এ অঞ্চলে
মানুষের নিরাপত্তা ও স্থানীয় থানাপুলিশের সংখ্যা এবং কর্মপরিধি আরও বাড়ানোর দাবী
দীর্ঘদিনের।
তিনি অনেকটা দূঃখ করে বলেন, শুধু স্থানীয় প্রশাসনের একার ব্যর্থতায় এলাকার
সার্বিক পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে না। তার কিন্তু ভাবার সময় এখনও আসেনি। বিশেষ করে এ
সাথে নানান ধরনের সংকট জড়িত। ফলে স্থানীয় ভাবে পুলিশের সীমাবদ্ধ ক্ষমতায়নে রাতারাতি
সব কিছু উন্নতি হয়ে যাবে তা কিন্তু ঠিক নয়। তারপরও এ দেশটা আপনার ও আমার। স্বপ্নের
সোনার বাংলা গড়ে তুলতে এবং এলাকার সার্বিক নিরাপত্তায় থানা পুলিশকে জনগণের বন্ধু
ভাবতে হবে তাহলেই পুলিশই জনতা আর জনতাই পুলিশ হিসাবে রূপ লাভ করবে।