মিয়ানমারের পালা বদল কি রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করবে!

২০১৭ সালের পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। এ সময়ে অং সান সু চির বেসামরিক সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সদিচ্ছাকে মূল্যায়ন করেনি। তাঁর এ অবস্থানে দেশটির সেনাবাহিনীর মতেরই প্রতিফলন দেখা গেছে। এখন মিয়ানমারে সামরিক সরকার আবার ক্ষমতা দখল করায় দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যায় খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। বরং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পুরো প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

মিয়ানমারে ক্ষমতার পালাবদল, রোহিঙ্গা সংকটে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে সম্পর্কে কয়েকজন কূটনীতিক ও দুজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। তবে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এবার উল্টোটাও ঘটতে পারে। ১৯৮০ ও ১৯৯০–এর দশকে সেনাশাসনের সময়ই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়েছিল। ওই সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই ফেরত গেছে। কাজেই এবারও সামরিক শাসনের সময় হুট করে প্রত্যাবাসন হলেও হতে পারে।

গতকাল সোমবার মিয়ানমারের ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশ একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিকট প্রতিবেশী মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আর সাংবিধানিক পন্থা সমুন্নত থাকার প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। আর বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে আশা করে বাংলাদেশ।
এ নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর দপ্তরে বলেন, ‘আমরা চাইব না প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, তা শ্লথ হয়ে পড়ুক। সেখানে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর যত শিগগিরই সম্ভব এ আলোচনা অব্যাহত রাখতে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করব।’

সীমান্তে নজরদারির বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মিয়ানমারের ক্ষমতার পালাবদলের কারণে যাতে দুই দেশের সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সতর্ক থাকবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করে, মিয়ানমারে বেসামরিক নেতৃত্বের পরিবর্তে সামরিক সরকার ক্ষমতা নেওয়ায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দেশটির মনোভাবের নীতিগত কোনো পরিবর্তন হবে না। তাই আইসিজে ও আইসিসিসহ আন্তর্জাতিক পরিসরে চাপ বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশকে মনোযোগী থাকতে হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চীনের ভূমিকা কেমন হবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেসব বিষয়ও এখন সামনে চলে আসছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

পথিকটিভি/এ আর