যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এনসিএমইসির দেয়া তথ্যে গ্রেপ্তার নিপীড়নকারী।

অনলাইন ডেস্কঃ বরিশালের এক ছেলেশিশুকে (১০) যৌন নিপীড়ন করেছিলেন ২১ বছরের এক তরুণ। সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে রাখেন নিজের মুঠোফোনে। ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল এ তথ্য পৌঁছে দেয় ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি) কাছে। তারা এ তথ্য জানিয়ে দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। এরপর সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন বিভাগ শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে সংশ্লিষ্ট তরুণকে।
বরিশালের শিশু নিপীড়নের ঘটনাটি প্রায় দেড় বছর আগের। ছবি এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে জড়িত তরুণকে রাজধানীর বনানী থেকে ১২ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। ঢাকার বনানীতে শ্রমিকের কাজ করেন। বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তিনি শিশুটিকে নিপীড়ন করেছিলেন। আর নিপীড়নের শিকার শিশুটি কৃষক পরিবারের সন্তান।

জিজ্ঞাসাবাদে নিপীড়নের সত্যতা স্বীকার করেছেন ওই তরুণ। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনার শিকার শিশুর পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি। ফলে মামলার বাদী হয়েছেন সিআইডির এক উপপরিদর্শক (এসআই)। গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, অন্তত পাঁচটি ছেলে তাঁর হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। বাল্যকালে তিনিও এমন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন।

এনসিএমইসি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধ, শিশু পর্নোগ্রাফি নির্মূলসহ শিশুদের অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধন করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফট তাদের নেটওয়ার্কে শিশুদের যৌনকাজে ব্যবহার, যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এনসিএমইসিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানায়। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এনসিএমইসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিআইডি। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকেই অভিযান চালাচ্ছে তদন্ত সংস্থাটি।

রাজধানীর তুরাগে গত বছরের আগস্টে নিজ ফুফা ও ফুফুর হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয় ১১ বছরের এক মেয়েশিশু। তাদের বাসায় বেড়াতে এসেছিল শিশুটি। এক রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর তাকে যৌন নিপীড়ন করেন কম্পিউটার প্রকৌশলী ফুফা। আর ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন ফুফু, যিনি পেশায় চিকিৎসক। ভিডিওটি নিজেদের মুঠোফোনে রেখেছিলেন এই দম্পতি। ওই ভিডিও এনসিএমইসিকে দেয় গুগল। সঙ্গে যুক্ত করে দেয় ওই দম্পতির মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর। গত ২৯ ডিসেম্বর তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

জিজ্ঞাসাবাদে এই দম্পতি বলেছেন, ঘটনার দিন তাঁরা গাঁজা সেবন করেছিলেন। তখন ভিন্নধর্মী যৌন অভিজ্ঞতা নিতে তাঁরা নিপীড়নের ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল ইসলাম তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মামলা করেছিলেন। কিন্তু আসামিরা তাঁর বোন ও বোনের স্বামী হওয়ায় এখন মামলা তুলে নিতে চাইছেন। শিশুটির মা-ও চাইছেন না মামলা চলুক। তাঁদের ভাবনা, গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেছেন, এতেই ওই দম্পতির শাস্তি হয়ে গেছে।

এনসিএমইসির তথ্য, শিশুদের দিয়ে যৌনদৃশ্যে কাজ করানো, তাদের যৌন নিপীড়নের ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তা আদান-প্রদানের দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশের আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ২০১৯ সালে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি আদান-প্রদান হয়েছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪২টি।

সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তাঁদের কয়েক হাজার প্রতিবেদন দিয়েছে এনসিএমইসি। এগুলোর বেশির ভাগই আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির আদান-প্রদান। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে ৫৪টি প্রতিবেদন বাছাই করে সিআইডি। সেখান থেকে পাঁচটি প্রতিবেদন নিয়ে তারা প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে তিনটি ঘটনাতেই শিশু যৌন নিপীড়নের সত্যতা পেয়েছে। দুটি ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুটি ঘটনাতেই শিশুরা নিপীড়নের শিকার হয়েছে নিকটাত্মীয়র হাতে।

মামলায় পরিবারের অনীহা প্রসঙ্গে ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরিন বলেন, এ ধরনের ঘটনায় লোকলজ্জার ভয়ে পরিবার মামলা করতে চায় না এটা ঠিক। আবার মামলা করলেও বিচারে দীর্ঘসূত্রতায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সূত্রঃ প্রথম আলো

পথিকটিভি/ এ আর