কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলে সকল সেবাখাতে দারিদ্র বিমোচন বাস্তবায়ন মারাত্মক ঝুঁকিতে

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম: কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চলে দারিদ্র বিমোচনে ও বেকার যুবকদের কল্যানে জেলার লাকসাম, লালমাই, সদরদক্ষিণ, বরুড়া, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সকল সেবাখাতে সরকারী-বেসরকারী উদ্যেগ বাস্তবায়ন অনেকটাই নানান ঝুঁকিতে পড়ে প্রয়োজনীয় শিল্পায়নের অভাবে হাজার হাজার যুবক বর্তমানে কর্মহীন জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
জেলার দক্ষিনাঞ্চলের একাধিক সূত্র জানায়, এ অঞ্চলের বেকার সমস্যা, আর্সেনিক, বাজার মনিটরিং, শিল্প পার্ক, ইকোনমিক জোন, ভেজাল-খাদ্য নিরাপত্তা ও অপুষ্টির বিষয়টি একটি জটিল সমস্যা। এলাকার গরীব মানুষদের দারিদ্রের হাত থেকে মুক্ত করতে প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে কর্মসংস্থান। কিন্তু দেশে বর্তমান সরকারের শাসন আমলে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লেও এ অঞ্চলে তার লক্ষ্য অনেকটাই মন্থরগতি।
বিশেষ করে মানব সম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি নিরাপদ পানি-পয়ঃনিস্কাশন, জ্বালানী, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী-পুরুষের সমতা আনয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, স্থানীয় সরকার কাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্যতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সেক্টরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দায়িত্বশীলদের অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও দূর্নীতির কারনে সেবা পাচ্ছে না এ অঞ্চলের মানুষ। তবে এ অঞ্চলের স্থাণীয় এমপি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এবং অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল লোটাস এমপি এ অঞ্চলের উন্নয়নে রাতদিন কাজ করছেন। এ দিকে বৃহত্তর লাকসামের আরেকটি নতুন উপজেলা লালমাই গঠন এবং লাকসাম পৌরশহরকে মডেল পৌরসভা ও স্মাট সিটির দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন ওই দুই মন্ত্রী।
ওই সূত্রগুলো আরও জানায়, বর্তমানে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৬টি উপজেলার ব্যবসা-বানিজ্যে গত এক বছর যাবত অদৃশ ভাইরাস করোনার প্রভাব ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানাহ কারণে অস্থবিরতা বিরাজ করছে। স্থানীয় ভাবে এখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় বেকারত্বের পাশাপাশি দারিদ্রতাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারী-বেসরকারী বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বানিজ্য সম্প্রসারনে মুক্ত বাজার অর্থনীতি, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ , দক্ষ জনবল ও বানিজ্যিক সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এ অঞ্চলে। সারা দেশের ন্যায় পরিকল্পিত শিল্পায়ন গড়ে তুলতে এ অঞ্চলে সরকারী কিংবা বেসরকারী উদ্যোক্তাদের বড় অভাব।
অপরদিকে দারিদ্র বিমোচন ও বেকার যুবকদের কল্যানে কেউ কেউ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বললেও এ প্রধান হাতিয়ার তথ্য প্রযুক্তিখাতের বর্তমান সূচক চরম হতাশা জনক। এ খাতে দক্ষিণ এশিয়ার গড় মান ৪.২৮ আর ১.০১ পয়েন্ট নিয়ে ২৬ নাম্বারে রয়েছে বাংলাদেশ। অথচ চীন দারিদ্র বিমোচনে বেকার যুবকদের কল্যানে এত কাজ করেও তথ্য প্রযুক্তি সূচকে তারা অবস্থান করছে ৯.৬ সূচকে। তবে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার কারনে তা অনেকটাই পূর্বের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে যাচ্ছে।
স্থাণীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পরিবেশবিদদের মতে, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলাগুলোতে কৃষি ও মৎস্য ভিত্তিক বিনিয়োগের চাহিদা ও ভৌগলিক অবস্থানের কারনে অল্প খরচে স্বল্প সময়ে ব্যাপক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র নারী নওয়াব ফয়জুন্নেছার জন্মস্থানখ্যাত লাকসাম শতাব্দিকাল থেকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক , ক্রীড়া ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ ঐতিহ্য বহন করছে। দেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ১০ কোটি মানুষ নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও ২ কোটি মানুষ হতদরিদ্র এবং বাকী ৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার লোক ধনী ব্যাক্তি বাকী ৪ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ মধ্যবিত্ত সূচকে অবস্থান করছে। যে দেশে ৬০ ভাগ লোক দারিদ্র সেখানে বেকার থাকা স্বাভাবিক নয় কি।