দেশে কিশোর অপরাধ বেড়ে গেছে : মেনন

দেশে কিশোর অপরাধ বেড়ে গেছে : মেনন

নিজেস্ব প্রতিবেদক: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, এখন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শিশু আছে। এতে বোঝা যায়, দেশে কিশোর অপরাধ বেড়ে গেছে। এজন্য মন্ত্রণালয়কে আরও কিছু জায়গায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছি।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি কিশোর অপরাধীর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। যে কারণে ধারণ ক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অপরাধী এখন সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, এখন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ শিশু আছে। এতে বোঝা যায়, দেশে কিশোর অপরাধ বেড়ে গেছে। এজন্য আরও কিছু কিছু জায়গায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়া শিশুদের যেখানে রাখা হবে, সেখানে পুনর্বাসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের কার্যপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় দেশে বর্তমানে তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে একটি বালিকা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ধারণ ক্ষমতার কম থাকলেও বালক শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র দুটিতে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ শিশু রয়েছে। টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৯০৯ শিশু রয়েছে। যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১৫০ জনের ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে ৩৫৩ জন শিশু রয়েছে। গাজীপুরের কোনাবাড়ির বালিকা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ১৫০ আসনের বিপরীতে ৮৯ জন রয়েছে।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা পূরণের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত হিজড়া শনাক্তকরণের কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এছাড়া ক্যান্সার, কিডনিসহ ছয়টি জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জটিল ও দুরারোগ্য ছয়টি রোগের চিকিৎসায় এককালীন যে অর্থ প্রদান করা হয়, তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চেকের মাধ্যমে প্রদানের সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, শিবলী সাদিক, বদরুদ্দোজা ফরহাদ হোসেন ও আরমা দত্ত উপস্থিত ছিলেন।  এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বৈঠকে যোগদান করেন।