ফেসবুকের পাশাপাশি টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধের ঘোষনা; পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া অব্দি সাইটে না যাওয়ার আদেশ।

Spread the love

মিয়ানমারে ফেসবুকের পর এবার টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সামরিক সরকার। দেশটির প্রধান ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের একটি টেলিনর নিশ্চিত করছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত’ গ্রাহকদের ওই দুটি সাইটে ঢোকা থেকে বিরত রাখতে বলা হয়েছে তাদের।

‘দেশটির জনগণের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার’র লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ফেসবুক ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল জান্তা সরকার।

গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছিল ৩৪৬টি আসন। সোমবার থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। তারা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। যদিও ইউএসডিপি ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে।
গত সোমবার ভোরে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট এবং স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতাদের আটক করে এবং দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী। এই সেনা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ এবং সেনাপ্রধান মিন অং লাইং।

সেনা অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের আটকের জেরে মিয়ানমারে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিক্ষোভ ক্রমেই দানা বাঁধছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকেরা শুক্রবার ইয়াঙ্গনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে এবং অং সাং সু চির পক্ষে শ্লোগান দেয়।

সু চি কে সোমবারের পর আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার আইনজীবী বলছেন, সোমবারের পর থেকে থেকে তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন। কিন্তু তিনি তাদের সাথে দেখা করতে পারছেন না।

সোমবারের সেনা অভ্যুত্থানের পর শুক্রবার বিকেলে কয়েকশ ছাত্র-শিক্ষক জড়ো হয় দাগন ইউনিভার্সিটির প্রাঙ্গণে। তারা তিন আঙ্গুলের স্যালুট প্রদর্শন করছিল- এই স্যালুট এই এলাকার বিক্ষোভকারীরা রপ্ত করেছে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে। তারা সু চির পক্ষে শ্লোগান দেয় এবং লাল পতাকা উড়ায়।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে মিন সিথু নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রজন্মকে এই ধরণের সেনাবাহিনীর একনায়কতন্ত্রের কারণে ভোগান্তির শিকার হতে দিতে পারি না।’

সেনা অভ্যুত্থানের প্রথম ধাক্কাটা দেশটির মানুষের কাছে দুর্বিসহ ছিল। কিন্তু মানুষ এখন বুঝতে পারছে, কী হয়েছে এবং তারা এখন একটা বিকল্প উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

সেনা কর্তৃপক্ষ যতটা শক্ত করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে ঠিক সেভাবেই তাদের বিরুদ্ধে মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছে।

মানুষ সেনাবাহিনীর ধরপাকড়ের ভয়ে এখনো পর্যন্ত রাস্তায় নেমে বড় ধরণের বিক্ষোভ করেনি। কিন্তু তাদের কথা যাতে মানুষ জানতে পারে সেই কারণে তারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। যে কারণে এগুলো ব্লক করে মানুষের প্রতিবাদের মাধ্যম বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছে সামরিক সরকার।

সূত্রঃ সমকাল

পথিকটিভি/ এ আর