‘কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ফলে জালিয়াতি হয়েছে’, বিরোধী দলীয় মেয়রদের অভিযোগ; চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন।

Spread the love

ভোট গ্রহণের ছয় দিন পরও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফল নিয়ে বিভ্রান্তি কাটছে না। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সর্বশেষ ফলাফলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে ২২টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট দেখানো হয়েছে। অথচ ২৯ জানুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো ইসির কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দুই কেন্দ্রে শূন্য ভোট ছিল শাহাদাতের। তবে ২৯ জানুয়ারির ফলাফলের কপিতে ১০৮টি কেন্দ্রের ভোটের হিসাব ছিল না।

কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ফলে জালিয়াতি হয়েছে, এমন প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য মেয়র প্রার্থীরা। এমনকি ভোটকেন্দ্রে ঘোষণা করা ফল নিয়ন্ত্রণকক্ষে আসতে আসতে পাল্টে যাওয়া এবং যেসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ ৭০ শতংশের বেশি দেখানো হয়েছে, সেসব কেন্দ্রের ইভিএম মেশিনের মুদ্রণ কপি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ভোটের পর গত ৩১ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনকে ‘ভোট লুটের মহোৎসব’ বলে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৭ জানুয়ারি বিকেল চারটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রভিত্তিক বেসরকারি ফল ঘোষণা করতে রাত দুইটা পর্যন্ত লেগে যায়। ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটের পরও কেন ফল ঘোষণা করতে ১০ ঘণ্টা লাগল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও নানা প্রশ্ন, সন্দেহ–অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

ভোটের পর সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম শহরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম–সংলগ্ন জিমনেসিয়ামে স্থাপিত ইসির নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ফল ঘোষণা করা হয়। সেখানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় স্ক্রিনে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল তুলে ধরা হয়। মোট ৭৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩৩টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়। সহিংসতার জন্য দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। ফলাফলে ২২ কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী শাহাদাত হোসেন শূন্য ভোট পেয়েছেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয় । এর এক দিন পর গণমাধ্যমে পাঠানো কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়
, দুটি কেন্দ্রে ধানের শীষ শূন্য ভোট পেয়েছে। এই ফলাফলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে ১০৮টি কেন্দ্রের ফল তাতে ছিল না। পরে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ওই ১০৮টি কেন্দ্রসহ ৭৩৩ কেন্দ্রের একীভূত ফল সংগ্রহ করে দেখা যায়, ধানের শীষ ৩টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট পেয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে হাসানুজ্জামান দাবি করেন, নিয়ন্ত্রণকক্ষের ঘোষণামঞ্চ থেকে ২৭ জানুয়ারি রাতে যে ফল ঘোষণা করা হয়, সেই ফলই বহাল রয়েছে। গণমাধ্যমকে ই–মেইলে দেওয়া ফলটি সঠিক নয় বলে তাঁর দাবি। তিনি ঘোষণামঞ্চ থেকে ঘোষিত ফলাফলের মুদ্রিত অনুলিপিও এই প্রতিবেদককে দেখান। প্রতিটি পৃষ্ঠায় তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। তাতে দেখা যায়, ২২টি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী শূন্য ভোট পেয়েছেন।

হাসানুজ্জামান বলেন, তাড়াহুড়ার কারণে গণমাধ্যমে ই–মেইলে পাঠানোর ফলে ভুল হতে পারে।

এ বিষয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, ইসি যেভাবে ইচ্ছে, সেভাবেই ফল পাল্টে দিতে পারে, এটিই তার বড় প্রমাণ।

ফল নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন যারা পরিচালনা করেছে, এটা সম্পূর্ণ তাদের বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

৭৩৩ কেন্দ্রের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে ৯৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ৪৯ কেন্দ্রে ভোট ছিল ৫ শতাংশের কম। এ ছাড়া ৯ কেন্দ্রে ভোট ছিল ৯০ শতাংশের বেশি। ভোটের এত তারতম্য সম্পর্কে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, পোশাকশ্রমিকদের অনুপস্থিতিসহ নানা কারণে ভোট কমবেশি হয়েছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

পথিকটিভি/ এ আর