নাটোরের সিংড়া পৌর নির্বাচন ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘোষণা

Spread the love
মোঃ মনজুরুল ইসলাম : প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় নৌকা প্রতিকে ভোট ডাকাতির অভিযোগে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মো.তায়জুল ইসলাম নাটোরের সিংড়া পৌর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার দুপুর ১টায় সিংড়া পৌর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন প্রার্থী স্বয়ং।
বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মো.তায়জুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন,নির্বাচনের চার দিন আগে থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসের কমর্ীরা ধানের শীষের এজেন্ট ও সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিতে শুরু করে। এ ব্যাপারে তাঁরা জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অন্তত ১০টি লিখিত অভিযোগ দিলেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ অবস্থায় বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তখন তাঁরা ৩০ তারিখে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ (শনিবার) সকালে ভোট গ্রহণ শুরুর পর থেকে দেখা যায় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের হাত থেকে ব্যালট কেড়ে নিয়ে নৌকা প্রতিকে সিল দিতে শুরু করে। আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বার বার ফোন করলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। কেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থী নিজে সংশ্লিষ্টদের ফোন করতে চাইলে তাঁর ফোন কেড়ে নেয়া হয়। অথচ নৌকার সকল কর্মী ফোন নিয়ে ভোট কক্ষে অবস্থান করেছেন। সকল কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ কমর্ীরা নৌকার কমর্ীদের চাপে সব অন্যায় মুখবুঝে সহ্য করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন,আমি মহিলা ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে নৌকার এজেন্ট আমাকে নৌকা প্রতিকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। আমি তাতে অসম্মতি জানালে আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। এভাবে কোনো ভোটারই স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির দাউদার মাহমুদ বলেন,প্রকাশ্য ভোট ডাকাতি বন্ধে প্রশাসন যখন কিছুই করতে পারছেন না তখন আমরা নির্বাচনে থেকে কি করবো ? বাধ্য হয়ে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দঁাড়াচ্ছি। প্রহসনের এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আমাদের ঠিক হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আইনজীবী মজিবুর রহমান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আজগর,পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
বিএনপির ভোট বর্জনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো.জান্নাতুল ফেরদৌস জানান,ভোট গ্রহণ নিয়ে কোনো অনিয়মের খবর তঁার জানা নাই। তাঁর কোনো কর্মী ভোট ডাকাতি তো দূরের কথা সামান্য অনিয়মও করেননি। তিনি বলেন,বিএনপি অনেক আগেই ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ায়েছেন। এখন শুধু প্রশাসনকে বিব্রত করার জন্য বর্জনের ঘোষনা দিয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো.আছলাম জানান,বিএনপির ভোট ডাকাতি করার অভিযোগ সত্য নয়। শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠ ভোট হচ্ছে।