লাকসামে জীনের বাদশা-রানী পরিচয়ে স্বামী-স্ত্রী জনতার হাতে আটক

Spread the love

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম: কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার গোন্দিপুর ইউপির মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার সকালে জ্বীনের বাদশা-রানী পরিচয়ে স্বামী-স্ত্রী দুইজনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতারনার স্বীকার পরিবারের পক্ষে শরিফুল ইসলাম সবুজ বাদী হয়ে লাকসাম থানায় মামলা রুজু করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলা অভিযোগে জানা যায়, আটককৃত জ্বীনের বাদশা সফিক ও রাণী সাজেদা বেগম স্বামী-স্ত্রী দু’জন দীর্ঘদিন যাবত ভূয়া কবিরাজ সেজে মানুষের সাথে নানাহ ভাবে প্রতারনা করে আসছে। বিগত ৮/৯ মাস পূর্বে ওই ইউপির মোহাম্মদ গ্রামে করিম হাজী বাড়ীতে পূর্বের আত্মীয়তার সূত্র ধরে তাদের যাওয়া আসার এক পর্যায়ে ওই বাড়ীর লোকজনের কাছ থেকে জ্বীনদ্বারা কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা সহ প্রায় ৬ লক্ষ টাকার মালামাল সুকৌশলে হাতিয়ে নেয়। ১৫ দিন পার হলেও কবিরাজী চিকিৎসার কোন ফল না পেয়ে ওই বাড়ীর লোকজন কবিরাজ সফিক ও সাজেদাকে টাকা ও স্বর্ণ ফেরত দিতে চাপ শুরু করলে বুধবার বিকেলে কিছু স্বর্ন নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী ওই বাড়ীতে গেলে, ফেরতকৃত স্বর্নগুলোর প্রতি সন্দেহ হলে তাৎক্ষনিক ওই বাড়ির লোকজন কবিরাজ সফিক ও সাজেদাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে, রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃতদের থানায় হেফাজতে নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার সন্ধার পূর্বে প্রতারক কবিরাজ স্বামী-স্ত্রী দু’জনের বিরুদ্ধে লাকসাম থানায় ক্ষতিগ্রস্থরা মামলা করলে পুলিশ তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়ে দেয়।
স্থাণীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, আটককৃত জ্বীনের বাদশা পরিচয়কারী সফিকুর রহমান নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হিসেবে এলাকায় পরিচয় দিয়ে আসছিলো। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম অভিজ্ঞ কবিরাজ হিসাবে পরিচয় দিতো। জ্বীনদ্বারা সখল কবিরাজ করিাজি চিকিৎসা দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারনা করে ধরা পড়লে স্বামী সফিক নিজেকে সেনা সদস্য কিংবা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মুক্ত করে নিতো। গত সপ্তাহে এমনি একটি প্রতারনা ঘটনা ঘটানোর সময় পশ্চিমগাঁও বাগিচা পাড়া এলাকায় স্ত্রী সাজেদা বেগম জনতার হাতে আটক হলে খবর পেয়ে স্বামী সফিক ওইসব আত্মীয়স্বজনদের পরিচয়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়।
সূত্রগুলো আরও জানায়, তারা স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা বিভিন্ন স্থানে কবিরাজি চিকিৎসার নামে মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে। তারা স্বামী-স্ত্রী অনেকটা স্থানীয় বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের আত্মীয় পরিচয় বহন করত বিধায় তাদের প্রতারনা স্বীকার ভোক্তভোগীরা তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতিত হয়েও মুখ খোলার সাহস পেতো না। তাদের বাড়ী ওই ইউপির বেতিহাটী গ্রামে হলেও তারা গোবিন্দপুর মৃধা বাড়ীর ঠিকানায় পরিচয় দিতো।
এ ব্যাপারে লাকসাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত মোঃ তোফাজ্জল হোসেন জানায়, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক আমরা ওই গ্রামে গিয়ে জনতা হাতে আটক জ্বীনের বাদশা-রানী পরিচয়কারী স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। ক্ষতিগ্রস্থরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করলে আমরা তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করি।