প্রথম ফোনালাপঃ পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের

Spread the love

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রথম ফোনালাপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রথম আলাপেই আমেরিকার নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন বাইডেন।
ফোনালাপে রাশিয়ায় চলমান পুতিনবিরোধী বিদ্রোহ এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার মধ্যকার একমাত্র অবশিষ্ট পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে কথা হয়।
রাশিয়ার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয় মি. পুতিন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
দুই পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তারা যোগাযোগ রক্ষা করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন মি. পুতিন ‘রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে সেটি দুই দেশের জন্য ভালো – এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সহায়ক বলে চিহ্নিত’ করেছেন।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে উল্লিখিত হয়: “রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতার মধ্যে আলোচনা অনেকটা ব্যবসায়িক এবং খোলামেলা ধাঁচের ছিল।”
দুই নেতা ওবামার সময়ে করা ‘নিউ স্টার্ট’ নামের একটি চুক্তি নতুন করে নবায়ন করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রাগারে মিসাইল, লঞ্চার এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা সীমিত করার বিষয়ে ছিল চুক্তিটি।
আগামী মাসেই এই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আর ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মি. পুতিনের বিষয়ে যথেষ্ট কঠোর ছিলেন না বলে অভিযোগ তোলেন সমালোচকরা।
এর আগের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও – যার অধীনে জো বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন – রাশিয়ার বিষয়ে কিছুটা দুর্বল ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্রাইমিয়ার সংযুক্তি, পূর্ব ইউক্রেনে আক্রমণ এবং সিরিয়ার ওপর জোর প্রয়োগ করার ইস্যুগুলোতে ক্রেমলিনের ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ না থাকার অভিযোগ তোলা হয় ওবামা প্রশাসনের ওপর।
জো বাইডেন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প যতটুকু শক্ত ছিলেন ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর, তিনি তার চেয়ে বেশি কঠোর থাকবেন।
দুই নেতার ফোনালাপ সংক্রান্ত খবরে বলা হচ্ছে, রাশিয়া যে ২০২০ ও ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে, মি. বাইডেন এই বিষয়টি জানেন বলে মি. পুতিনকে বলেছেন।
এছাড়া সাইবার ষড়যন্ত্র বা কোনো ধরণের আক্রমণ প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলেও মি. পুতিনকে জানিয়েছেন তিনি।
জো বাইডেন এবং তার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক দল ইউরোপ সম্পর্কে মি. পুতিনের অভিসন্ধি এবং মানবাধিকার ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেবে।

পথিকটিভি/ এ আর