নওগাঁয় আম গাছে উঁকি মারছে মুকুল

Spread the love
মোঃ ফিরোজ হোসাইন : নওগাঁর আত্রাই উপজেলা যেন আমের রাজ্য হিসেবে পরিণত হতে চলেছে।আম গাছে উঁকি মারছে মুকুল।
ফাগুনের ছোঁয়ায় পলাশ-শিমুলের বনে লেগেছে আগুন রাঙা ফুলের মেলা। শীতের জড়তা এখানো ফুল পাখিদের সুমধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরছে  বাংলার বুক মাতাল করতে ঋতুরাজ বসন্ত । রঙিন-বন ফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে, তেমনি নতুন সাজে যেন সাজতে শুরু করেছে  আত্রাই উপজেলার আম বাগানগুলো। আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সর্বত্র জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। শোভা ছড়াতে শুরু করেছে  নিজস্ব মহিমায়।  বাগান মালিক, কৃষিবিদ, আমচাষিরা আশা করছেন বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ উপজেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। আমচাষি ও বাগান মালিকরা বাগানে পরিচর্চা নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অবশ্য গাছে মুকুল আশার আগে থেকেই গাছের পরিচর্চা করছে তারা। যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়।
এ উপজেলা আম্রপালি,হাড়িভাঙা, ফজলি, খিড়সা, মোহনা, রাজভোগ, রূপালী, গোপালভোগসহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযোক্ত হওয়ায় চাষীরা নিজ উদ্যোগে প্রথমে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমের বাগান সৃজন করলেও বর্তমানে তারা নিজেরাই চারা উৎপাদন করে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুফলও পেয়েছেন অনেকেই। আম চাষে সফল কৃষক আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের মো.বাবলুর রহমান  জানান, পুরাপুরিভাবে এখনো গাছে মুকুল আসেনি। কয়েকদিনের মধ্যেই সকল গাছেই মুকুল আসবে।
আমি এ আম থেকে অনেক টাকা আয় করেছি। বাবলুর মতো সিংসাড়া  গ্রামের হাফিজ উদ্দিন, আনছার আলী,লুৎফর ইসলামসহ অনেকেই আমের বাগান কেউ তৈরি করেছেন আবার কেউ লিজ নিয়ে আম চাষ করছেন । তারা জানান, ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার কাংঙ্খিত ফলনের আশা করছেন আম চাষিরা। সুবিধাভোগীদের সুফল দেখে চাষিরা আম চাষে উৎসাহিত হয়ে নিজ নিজ উদ্যোগে নতুন নতুন বাগান সুজন করছেন। ধীরে ধীরে এ উপজেলা জুড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান। উৎপাদিত আম মানসম্মত হওয়ায় চাহিদাও বাড়বে অনেক।
এ ব্যাপারে আম বাগান মালিক আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের ডাঃ মেহেদী হাসান তমাল বলেন, ঝড় ও শিলা বৃষ্টি না হলে আশা করা যাচ্ছে এবারও আমের ফলন ভালোই হবে, আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে  গাছে গাছে। আম্রমঞ্জরির শুভ বার্তা বয়ে আনবে সবারই মনে। খানার বচনে আছে “ আমে ধান, তেতুলে বান“। প্রকৃতির এই আম্রমঞ্জরিই বলে দেবে কেমন যাবে এ বছর।
আত্রাই উপজেলার বিরাজমান আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ বছর আবহাওয়া অনুকুল থাকায় আমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে আশা করছেন আম চাষীরা ।
 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে এম কাওসার বলেন,গাছে গাছে আমের মুকুল  আসতে শুরু করেছে।  এই সময়ে আমের মূকুল গুলো রক্ষার্থে এবং অধিক ফলনের লক্ষ্যে বাগানের গাছ গুলোতে উকুন নাশক এভোমেট্রিন ও ছত্রাক নাশক মেনকোজেভ বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তর থেকে।
চলতি আম মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে আমের ফলন প্রতি হেক্টরে আবারো ১৫ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।