লাকসাম-মনোহরগঞ্জের হাটে শীতকালিন শাক-সবজির দামে ক্রেতারা প্রতারিত

Spread the love

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি: কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের হাটে-বাজারে শীতকালিন শাক-সবজি আসতে শুরু করলেও সরবরাহ কম হওয়ায় এবং কতিপয় সিন্ডিকেট ব্যবসার ফলে পাইকারী ও খুচরা বাজারে দাম লাগামহীন হয়ে উঠেছে। এতে ভাল দাম পেয়ে এলাকার কৃষকরা মহাখুশি হলেও ক্রেতারা বাড়তি দামের কারণে অখুশি। বিশেষ করে বানিজ্যিক ভাবে টমেটো,বেগুন, করলা, ঝিঙ্গা ও সীমসহ বিভিন্ন শাক সবজির বাজার মূল্য লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার মত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
দু’উপজেলার কৃষকরা লাভবান হওয়ায় প্রতিবছর এ সময়ে শীতকালিন শাক-সবজি চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বর্ষাকালের শেষ মুহুর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ক্ষরা, জলবায়ুর পরিবর্তন ও জলাবদ্ধতাসহ নানাহ অজুহাতে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের বাজারে কয়েক দফা বেড়ে শাক-সবজির দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে। মধুমাস অগ্রহায়ণ কে সামনে রেখে পাইকারী ও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শাক-সবজির দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এ দিকে কাঁচামালের বড় মোকাম লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজার। এখানে রয়েছে প্রায় ২৫/৩০টি কাঁচামালের আড়ৎ। প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে বিভিন্ন মোকাম থেকে আসা কাঁচামালগুলো আড়তে আসা মাত্রই স্থানীয় খুচরা দোকানসহ বিভিন্ন হাটবাজারে চলে যায়। এ সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কাঁচামাল সিন্ডিকেট চক্র বিভিন্ন অজুহাতে পন্যের দাম বাড়িয়ে নিজেদের ফায়দা লুটে নিচ্ছে।
চলমান সময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, করোনার প্রভাব ও সকল সেক্টরে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে প্রতিদিন রাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁচামাল বোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় বাড়ছে। ফলে প্রচুর সরবরাহ থাকা স্বত্ত্বেও শীতকালীন সবজির বাজার অনেকটাই চড়া। যেমন গত কয়েকদিন পাইকারী বাজারে প্রতিটি সবজি প্রায় পূর্বে তুলনায় দিগুন দামে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরে খুচরা বাজারে কেজিতে আরও ৫/৭ টাকা লাভে বিক্রি করতে হয়।
স্থানীয় বাজারের খুচরা বিক্রেতা খোরশেদ আলম জানায়, প্রতি কেজি মূলার শাক ২০ টাকার স্থলে ৬০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকার স্থলে ৫০ টাকা, লাল শাক ২০ টাকার স্থলে ৪০ টাকা সহ অন্যান্য শীতকালীন সবজি ৫০/৬০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। চলতি বছর শীতকালীন শাক-সবজি চাষে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বার বার হানা, সরকারীভাবে কারিগরী সহায়তা এবং বীজতলা থেকে জমিতে চারারোপন এবং উন্নত বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরনে সহায়তা দিতে দু’উপজেলার কৃষি বিভাগ নিয়ে নানাহ বির্তক উঠেছে। তার ্উপর উপজেলা দুটোর হাটবাজারে কৃষি উপকরণে নিম্নমান ও ভেজাল সামগ্রী উচ্চমূল্যে বিক্রিতে ক্রেতারা প্রতারিত এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকান্ড নিয়ে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের রহস্যজনক ভূমিকায় এলাকার জনমনে নানাহ কানাঘুষা হচ্ছে।
লাকসাম উপজেলা কৃষি বিভাগের জনৈক কর্মকর্তা জানায়, এ অঞ্চলে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। স্থানীয় কৃষকরা এ বছর কনোনার শিকার হলেও ফুল ও ফল ভাল থাকায় এবং বাজারে কাঁচামালের দাম ভাল পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা অত্যন্ত খুশি তবে ক্রেতা সাধারণ অনেকটাই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।