চুয়াডাঙ্গা কৃষক লীগের প্রাচার সম্পাদকের উপর হামলা কারী ছাত্রলীগের জিম দুটি চাপাতিসহ গ্রেফতার।

Spread the love
আলমগীর কবির, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলা পৌরসভাধীন মাঝের পাড়ার  কথিত ছাত্রলীগ কর্মী রিগ্যান (২৫)  এর পিতা আবুল আজম স্ট্রোক জনিত কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পুরাতন বিল্ডিং এর ভর্তি হয়।  অসুস্থ পিতা কে দেখাশোনার জন্য রিগান এবং রিগানের মামা কৃষকলীগ নেতা মহসিন রেজা পুরাতন হাসপাতলে আসে এবং ঐ একই তারিখ রাত অনুমান ১১.৫২ মিনিটে পুরাতন হাসপাতালে গেটে দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকাবস্থায় কথিত ছাত্রলীগ কর্মী আসামি জিম (২৪) পিতাঃ নজির সাং ফার্ম পাড়া, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা, থানা ও জেলাঃ চুয়াডাঙ্গা এর নেতৃত্বে ৫/৭ জনের একটি সশস্ত্র দল নিজেদের দলীয় কোন্দল ও রেষারেষির জের ধরে কথিত ছাত্রলীগ কর্মী রিগান কে খুন করার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালায়।  এ সময় তার মামা মহাসিন রেজা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাকেও খুন করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় রিগান এবং তার মামা মহাসীন রেজা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের লোকজন ছুটে আসলে, আসামিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। জখমী দু’জনকে তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের দুজনকেই ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করে। উল্লেখিত সশস্ত্র হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে রিগানের মামা চুয়াডাঙ্গা কৃষকলীগ নেতা মহসিন রেজা পরদিন অর্থাৎ ০২/১১/২০২০ খ্রিস্টাব্দ আসামিসহ পাঁচজনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৭ জনেরর বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার তার নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে থানায় প্রেরণ করলে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে এসব সশস্ত্র হামলাকারীদের ধরতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের চৌকস অফিসার ফোর্স মাঠে নামে। অদ্য ০৫.১১.২০২০ খ্রিঃ তারিখ গভীররাতে মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনাব আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান, ওসি চুয়াডাঙ্গা সদর থানার নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই রইসউদ্দিন ফরাজী, এসআই আশিকুল ইসলাম এবং এসআই রফিকুল ইসলাম সহ চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দামুড়হুদা থানাধীন মোক্তারপুর এলাকা থেকে মামলার ঘটনার প্রধান আসামি এবং সশস্ত্র হামলার নেতৃত্ব প্রদানকারী আসামি ১। জিম (২৫) পিতা নাজির গ্রাম ফার্ম পাড়া কে দুইটি ধারালো চাপাতি সহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার সহযোগী অন্যান্য হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম মহোদয় বলেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনের মাঠ কে সুসংহত এবং নির্বিঘ্ন করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ নিয়মিত পুলিশি অভিযান পরিচালনা করছে। কিছু কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ক্যাডার যাদের কোনো দলীয় পরিচয় নাই তারাই নামধারী ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে ক্রমাগত চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে কুপাকুপির ঘটনা ঘটিয়ে চুয়াডাঙ্গার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কে নস্যাৎ করার পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে। বাংলাদেশ পুলিশ তথা চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ এ ধরনের ষড়যন্ত্র মূলক কর্মকান্ড কে প্রতিহত করতে সদা প্রস্তুত। কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী এ সব সশস্ত্র হামলাকারী বা ক্যাডার দের নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে বা পুলিশি তদন্তে সেসব নেতৃবৃন্দের নাম আসলে তার দলীয় পরিচয় যাই থাকুক না কেনও তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ।